” শ্বেতপত্র ”
রুদ্র ম আল-আমিন

নিবিষ্ট মনে শ্বেতপত্রে
প্রায়শই সে লিখিত একখানি ক’রে চিঠি।
হরদম তাহা লইয়া
কলেজের ছেলেরা মেয়েরা ভাবিত,
ওর প্রেমিকা হয়তো হবে অপূর্ব সুন্দরী।
বন্ধু!
আমি আজ যার কথা বলিতেছি
সে হলো,,,,
আমার বন্ধু কবি স্বপন সুপ্রীতি!
স্বপনের খয়েরী দাঁতের ফোকলা হাসি
ঝাঁকড়া চুলে আলুথালু পান্জাবী,
সেই সাথে, তাঁর পরনে থাকিতো জিন্সের প্যান্টখানি।
উস্কখুস্ক মুখভরা দাড়ি, চেহারাটা মোটেও কালো নয়,,,
কিন্ত লেপ্টে গেছে মুখে তাঁর কালো কালি।
উপহাস করিস না বন্ধু!
সে কিন্ত একজন সত্যিই কবি।
চলনে বলনে এবরেথেবরে যাহাই দেখিস
কত ভালবাসিলে
তাঁহার নামখানি জুরে যায় আপনার সন্তর্পনে জানিস?
হয়তো স্বপনের স্মৃতি, আজো ভূলিতে পারি নাই,
কিন্ত ভূলে গেছি আমরা আমাদের স্মৃতি।
অনেক বছরপর, তাও তো বছর কুড়ি হবে,
হঠাৎ একদিন,
দেখা হলো পুরোনো বন্ধুর সাথে।
কবিকে বললামঃ”স্বপন কেমন আছিস? ”
ও বললঃ
“চিনতে পারলাম নারে, কে তুই”
দাঁতগুলো ওর কালো
চুলগুলোও আজ বাদামী,
আঁখি যেন কোটর থেকে বেরিয়ে লালবর্ণ সেজেছে রুক্ষমূর্তি রুপে।
বন্ধু! আমায় চিনতে পেরেছিস?
আচ্ছা থাক না ওসব কথা,,,সংসারে কে কে আছে রে?
লজ্জা পাসনে, আমি তোর অনেক পুরোনো বন্ধু।
এবার কি চিনিতে পারিলি, আমি কে?
মেয়েটা অনার্স দেবে
রাজেন্দ্রমোহন ওখানেই থাকে।
বদলাইনি নিজেকে, হয়তো বদলাতে পারিনি
একদিন সুপ্রীতিকে ছেড়ে।
রুদ্র!
তুই কিন্ত আগের মতোই আছিস, যেমন ছিলি বাইশ বছর আগে।
১৬/০৫/২০২০