“উজানের ঘাটে ”
রুদ্র ম আল-আমিন

হাতে হাতখানি রেখে
দু’ক্রোশ হাটিলাম তাহারে লয়ে খেয়া পাড় হ’তে।
সে আমায় কত ভালবাসে বলিতে চাহি না,
বরুনাকে দেখিলেই ইহা জানিতে পারিবে সবে।
চড়াই উৎরাই পেরুবার কালে
কাঁশফুল ছোয়ালাম তাঁহারে খুবই ভালবেসে।
ঠিক সেইক্ষনে,
মরমী সাধক একতারায় গান করেছিল, তখন তাহারই আপন মনে।
দক্ষিনা পবন,
বায়ু ঘূর্ণিপাকে,
কালো কেঁশে তখুন, বারবার যেত তাঁরি মুখাখানি ঢেকে।
দুপুরের খাড়া রোদ
তপ্ত দহনে
দু”জনার শরীরে কেবলই গিয়েছিল ভিজে একাকার হয়ে ।
সাদা ধবধবে ওড়নায়
বক্ষ কপোল ছুঁয়ে, শেষে স্পর্ষিত হত মোর শরীরখানি তবে।
ডাহুকী ডাকিছিলো দুবলার চরে
ইহা দেখিয়াই তুমি বড্ড হেসেছিলে সেইদিন মোর গায়ে পরে।
দু’ক্রোশ হাটিবার কালে,
পায়ে ফোঁসকা পরেছিল বলে,
খেঁয়ায় উঠিলে মোর কাঁধে ভর করে।
পাটনী কহিল,
সূধারাম! মাইঝি কোথা হতে এলো তর লগে?
কবে বিয়ে করিলি,নেমন্তন্ন করিবি কবে?
বাপের বয়সী কালো চামরার
হাড্ডিসার মানুষটির প্রশ্নবাণে,
দুজনাই হেসেছি তামাশার রঙ ছলে।
খেঁয়াপাড় হয়ে উজানের ঘাটে ফিরিলাম মিনিট দশেক পরে।
তোমার বাপজানে আমায় দেখিয়া
কিসের হাসি হাসিল, বুঝিনাই তক্ষুন তবে।
বাড়ি ফিরিবার কালে,
তোর ছলছল চোখ দুটো, সেইদিন গিয়েছিল ভিজে বক্ষ কপোল ছুঁয়ে।
বহুদিন পর ডাকচিঠি আসিল,,,,
নেমন্তন্ন করিলে আমায়,
তোমার বরের মুখটি একনজর দেখিবার তরে।
বরুনা!
আমাদের স্মৃতিপট কেন প্রেম নয় তবে?
February 06.2020