রুদ্র ম আল-আমিন এর ছোটগল্প
(পর্ব-০১)
“আর্থার বেন”

একুশ শতকে জন্ম নেয়া ডাচ বংশদ্ভুত জন বেন একটি রাজকীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বেন হলান্ডে (নেদারল্যান্ড) বসবাস শুরু করলেও তাদের রাজপরিবারে দেখা দেয় অভ্যান্তরীন কোন্দল। পরিবারে নেমে আসে বিভেষিকা। বেন এর জ্ঞাত ভাই এক এক করে হত্যা করতে থাকে পরিবারের সবাইকে। জন বেন একটি মাত্র শর্তে প্রানে বেচে যান তিনি, ডাচ ছাড়তে হবে তাঁকে।
জন বেন রাজ্য ছাড়া হয়ে যায় রাতের আধারে। জন বেনকে তুলে দেয় হয় পরিত্যাক্ত একটি নৌযানে, এই পরিত্যাক্ত জাহাজটিকে বয়ে নিয়ে চলে অন্য একটি জাহাজের সাথে বেধে।
মাঝ সমুদ্রে বেশ কয়েকদিন চলার পর জাহাজটি ভেসে আসে বেঙ্গল উপকুলে। জন বেনকে বন্দি করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর পর তুলে দেন পুলিশের হাতে। কিন্তু পুরো শরীর সার্চ করে তার কাছে পাওয়া যায় একটিমাত্র পাসপোর্ট তা থেকেই জানা যায় জন বেন একজন ডাচ নাগরিক।
বাংলাদেশ সরকারের নজরে আসে জন বেন। তদন্ত চলতে থাকে দীর্ঘদিন দু ব্ছরের কারাদণ্ড হয় শেষমেষ। দুবছর জেল খেটে থেকে যায় এদেশেই।
শুরু হয় নতুন দিনের পথচলা। এদেশের ভাষা রপ্ত করে ফেলেন খুব সহজেই
বিভিন্ন ধর্ম ও কালচারের সাথে পরিচিতি ঘটতে থাকে একের পর এক। এর পর বিয়ে করেন এক মান্দি পরিবারে।
এদেশে মান্দি একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মাত্র। বেশ কিছু দিন কেটে যায়, ধার্মিয় বিভাজনে জরিয়ে যায় এক সময়। কিন্তু জন বেন এর পরিবারে জন্ম নেয় ততক্ষনে একটি পুত্রসন্তান।
ধার্মিয় বিভাজনের দায়ে পুত্র সন্তানকে ফেলে আশ্রয় নেয় আমেরিকার জর্জিয়ায়। চাকুরীর জন্য হন্য হয়ে দৌড়াতে থাকেন বেন। ইন্টানেট ভার্চুয়ালে দেখা মেলে হোয়াইট হাউজে কর্মরত এক মহিলার সাথে। তিনি জন বেনকে আমন্ত্রন জানান এককাপ কফি পান করবার। জর্জিয়া থেকে ছুটে যান ওয়াসিংটন ডিসির মিডনাইট হোটেল এন্তোনিয়তে। হোয়াইট হাউজের ক্লাক নিনা, জন বেন কে প্রথম দর্শনেই ভাল লেগে যায়। কফিপান করতে করতে তারা পরিচয় পর্ব জানা হয়ে যায়। জন বেন নিজেকে ডাচ হিসেবেই মেলে ধরেন নিনার কাছে। নিনা আফ্রিকান ঘানা বংশদ্ভুত হলেও গত তিন পুরুষ পূর্বে তাহারা পাড়ি জমান আমেরিকার সিকাগো শহরে। নিনার বাবা একসময় সিনেট এর সদস্য ছিলেন। আততায়ীর গুলিতে তিনি যখন নিহত হন নিনা তখুন মাত্র দের মাস বয়স। নিনার মায়ের সুপারিশেই তাঁর হোয়াইট হাউজে ক্লার্কের চাকুরী হয়।
নিনা এখুন স্বাবলম্বী হলেও তার মা সিকাগোতেই অবস্থান করছেন। নিনা ভাষ্যমতে জন বেন এর জন্য তিনি কিছুই করতে পারবেন না, তবে যাহা করতে পারবেন তাহা হলো জন বেন কে তিনি বিয়ে করতে পারবেন কারন বেনকে তিনি পছন্দ করে ফেলেছেন।
(চলবে)

(এই গল্পটি ফিউচার নিয়ে লেখা ২০০০সালে বসে ২১০০সালের ভাবনা গল্পের মূল উপজীব্য)