বিয়োগিনী
রুদ্র ম আল-আমিন

শরীরখানি দুলিছে তোর বিহঙ্গের তালে তালে;
ঢেঁকিছাঁটা কলে,
তখুন,ধান বানিছো তুমি আপনার করিয়া সবে।
এলোচুলে
তোর হাতে বানানো পিঠা, এখুনো লেগে আছে যেন মোর ঠোটে।
সেইদিন তোর রাঙা চোখের চাহনিযুক্ত হয়ে,
নিমিষেই ভূলিয়া গেছি,
তোর বাঁকা কথাগুলো সবে।
প্রতিমার দুর্ব্যবহার
আমি দেখিতে দেখিতে অভ্যাসের দাস হইয়া গিয়াছিলাম,
তখুন বেশকাল ধরে।
হঠাৎ একদিন
তোর চিঠি আসিল বহুকাল পরে,
ডাকপিয়ন বলিল,
একটা দস্তখত দিতে হবে আপনাকে।
টিপছাপ দিবার কালে কহিলাম,
আমার নামে কে পাঠাইল এমন চিঠিখানা তবে?
সমনদার কহিল,
কলকাতা থ্যেইন কোর্ট অর্ডার এসেছে,,
বিবিজান, ছেড়ে যাচ্ছে আপনাকে চিরতরে।
চোখের কোণে দু’ফোটা জল গড়াগড়ি খেলিতেছে দেখে ;
বাবায় কহিল,
কাঁদিস না বাবা, আপদটা হয়তো এবার বিদায় হবে।
এই ব’লে বাবা;
হাউমাউ করে কেঁদে উঠিল,
কহিল, না-জানি, আমার নাতী ভাইটা কেমনে আছে?
দিদির পতি, নিরুদ্দেশ হইবার পরে,
বাবাকে একদিন কাঁদতে দেখেছিলাম।
কিন্ত
তখুন দেশে যুদ্ধ চলছিল,
তাই তো বাড়ির লোকজন, সে’দিন বাবার মুখটি চেপে ধরেছিলো সবে মিলে।
কিন্ত আজ,,
বাবা কাঁদছে আমিও,
কিন্ত এরই মাঝে মায়ের যে বিয়োগান্ত ঘটে গেল তবে।
প্রতিমা!
এত ব্যাথা, আমি রাখিব কোনখানে?
October 25.2019