রুদ্র ম আল-আমিন এর ছোটগল্প
(পর্ব-০২)
” বাপজান ”

আবিদার দ্বিতিয় বিয়ের সম্মতি শুনে ফিরোজ এগিয়ে এল।ফিরোজ আবিদার ছোটকেরার খেলার সাথী কিন্তু বয়সে তার থেকে মাত্র দুই বছরের বড়।
ফিরোজদের সচ্ছল সংসার, তার বড়ভাই এই বিয়েতে বাদসাধল, কিন্তু ফিরোজ তা মানতে নারাজ। এরপর বাড়ির অমতেই শিশুসন্তান সমেত আবিদা ফিরোজের বিবাহ সম্পন্ন হইল। বাসর রাতে আবিদার হাজারো প্রশ্ন তখুন মনের মধ্যে। কারন জহর কে, কি ফিরোজ সত্যি ভালবাসবে? ফিরোজকে সে আগে থেকেই নাম ধরে ডাকত কিন্ত বাসর রাতেই সংকল্প করিল যে, তাহাকে আর কোনদিনও নাম ধরে ডাকবে না। হাজার হোক সে এখুন তার পতি।
বাসরঘরে ফিরোজ দেখিল, আবিদা ঘোমটা টেনে ব’সে আছে। ফিরোজ তাহা দেখিয়াই হাসি মুখে কহিল,,
ঃ আবিদা, ঘোমটা খোলো, আমি ফিরোজ।
আমি তোমার সেই ফিরোজ,,
আবিদা লজ্জিত হইল, কারন, একদিন এমনি বাসর রাতে, গওহর তার ঘোমটা টেনে দুইহাত দিয়ে মুখটি টেনে তুলে অপলক দৃষ্টিতে চাহিয়া ছিল। গওহরের স্মুতি আবিদার মনে আজি বারংবার মনে হইতেছিল। আবিদার কান স্পর্ষ করিয়া ফিরোজের বাক্যলাপ বাতাসে মিসিয়া যাইতেছিল কিন্ত আবিদা তখুনও নিঃচুপ। এবার ফিরোজ প্রতিত্তুর না পাইয়া ডাকিল
ঃআবিদা—- আবিদা
আবিদা কেবলমাত্র আস্ত করিয়া হু বলিল
আবিদার কন্ঠস্বরের মধ্যে কোন প্রানচন্চলতা ছিল না।এবার ফিরোজ বলল ঃ আবিদা কথা বলছো না কেন?বাসররাত্রেই আবিদা সাথে ফিরোজের দুরত্ব কমিয়া গেল।
কিন্ত এরপর ফিরোজ যখন আবিদার সহিত, মিলন সন্ধিক্ষণে জরাইতে উদ্দত্ব ঠিক তখনই পাশের ঘর হইতে জহরের কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। এবং কান্নার আওয়াজ আবিদার কান স্পর্ষ করিতেই আবিদা মনের অজান্তেই ছটফট করিয়া বলিয়া উঠিল,,,
ঃবাপজান কাঁন্দিতেছে,,, আমার বাপজানেরে ছাড়া আমি বাচুম না,,,বলিয়াই চোখের দুইকোণ বেয়ে অশ্রু গরিয়ে পরতে লাগল।
ফিরোজ নিঃচুপ, ফিরোজের শরীরখানি তখুন থরথরকরে কাপিতেছিল। মুখে কোন কথা না বলিলেও আবিদাকে ইশারায় বুঝাইতে সক্ষম হইল,
আবিদা দ্রুত কাপড়খানি শরীরে পুনরায় জরাইয়া বাসরঘর থেকে পাশের রুমে যাইবার চেষ্টা করিতেই,, ফিরোজ তাহার গতিরোধ করে সন্মুখে দাড়াইল। আবিদা আবারো বলিয়া উঠিল,,, বাপজান
(চলবে)