রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব- ৯২)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

রমাদি নিজের মনের সহিত যুদ্ধ করিয়া শেষমেষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল যে, বদর দার সহিত শেষবারের মত আরো একবার কথা কহিবে। এবং নিজে জানিতে চাহিবে যে কেনই বা রমাদিকে একদিন ভাল বেসেছিলে?
মেয়ে মানুষের একটা সহজাত সৃংখলিত আছে আর, উহা হইল,পুরুষেরা যখন তাহাদের অবজ্ঞা বা ঘৃনা ভরে দেখেন তখুন তাহারা, বন্ধনের জোর বা আপত্তি খাটাইতে ব্যাস্ত হইয়া পড়েন।
রমাদিও সেষমেষ সেই সিদ্ধান্তই গ্রহন করিলেন। কিন্তু ইহা জানে যে, শুধু ভালবাসার জোরে তাহার উপর কোন প্রকার দাবী করিলেই তাহা পাওয়া যায় না।
কারো উপর জোর করিতে গেলে তাহার মাথে বৈবাহিক কিম্বা রক্তের সমপর্ক থাকতে হয় ইহা তিনি খুব ভালো করিয়াই জানেন কারন তিনি একজন প্রাপ্ত ব্য়স্ক।
রমাদি তবু ভাবিল যে, তাহার যত টুকু বদরের উপর জোর আছে তাহা দিয়েই তিনি রাজ্নীতি থেকে তাহাকে বের করিতে চেষ্টার ক্রুটি রাখিবেন না। মাকে কিছু না বলিলেও রাত যখন গভীর হইল বদর বাড়ি ফিরিতেই রমাদি তাহার মুখোমুখি হইল। বদর কোন কিছু না বলিয়া সোজা চলে গেলেন তাহার রুমে।
রমাদি মাকে বলিল,,,,
ঃমা,, আমি বদর দার ঘরে যাচ্ছি,,,,
রমাদির মা তেমন কোন কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন ঘরে।
রমাদি যখুন বদরের রুমে গিয়ে হাজির
হল বদর তখুন তাহার গায়ের কাপড় চোপড় পরিবর্তন করতে ছিল। রমাদি সন্তর্পণে চেয়ারটাতে জড়সড় হয়ে বসলেন। বদর রমাদিকে দেখেই জানিতে চাহিল কিছু একটা বলবে কি না?
রমা তখুন বদরের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে ছিল। রমার কেবলই মনে হইতে লাগিল,
যেন কতকাল পরে দেখছে তাকে।মাত্র ক’দিনেই যেন হাজার বছর পেরিয়ে গেছে। বদর যখন দ্বিতীয়বার আবার বলল,
ঃ রমা কিছু বলবে?
রমা একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ল, মুখ থেকে মনের অগোচরেই বেরিয়ে এলো হু,,,,,।
ঃহ্যা বলো কি বলবে?
ঃ আমায় এত সহজেই ভুলে গেল?
ঃ তা কি করে হয় রমা?
ঃ তুমি আজকাল একা একা চলতে পারো।আমার কথা একবারও মনে হয় না।
তোমার জানতে ইচ্ছে করে না,,,, আমি কেমন আছি?
রমার চোখের দিকে তাঁকাতেই বদর দেখল, রমার চেহারার সেই জৌলুশ আর নেই। হাসি খুশি তার মধ্য থেকে বোধ হয় চিরতরেই হারিয়ে গেছে। বদরের মনে হলো সে আর যাহাই করুক রমাকে দুরে রাখা তাঁর মোটেই ঠিক হয়নি।
বদর অনেকক্ষন চুপ রহিল, রমাদি বদরকে আবারো কহিল,
ঃ বদরদা তুমি,,মুসলমান ইহা আমি ভাবিনি,আমি তোমাকে বর ভেবেছি, আমার ভাবনার মুল্য তোমার কাছে এত তুচ্ছ?
বদর রমাকে থামতে বলল, কিন্তু রমা তাহার মুখের কথা থামাতে চাইল না। এরপর বদর রমাদিকে অনেকটা জোরপূর্বক বুকে জরিয়ে নিলেন এবং বদর বলতে থাকল,
ঃ রমা আমি তোমায় খুব ভালবাসি, খুব,,,
(চলবে)