রুদ্র ম আল-আমিন এর ছোটগল্প
( পর্র-০৪)
” বিনোদিনী ”

বিনোদিনীর সমস্ত ভাবনা পরদিন রুদ্রকে যখন শোনাইতে লাগিল,
নিরব দর্শকের ন্যায় তাহা উপলদ্ধি করা ব্যাথিত তাহার কোন পথ খোলা রহিল না।
বিনোদিনীর পীড়াপীড়ি ফলে, রুদ্র চেচিয়ে উঠিল, বিনোদিনী শান্ত হইলে, রুদ্র তাহাকে বসতে বলে অনুদিকে সংগে নিয়া ফিরিয়া আসিল।
অন্নপূর্ণা এসবের কিছুই জানে না। রুদ্র অনুদিকে বলিলো,
ঃ বিনোদিনী আমার পরিচয় জানিতে চায়?
অনুদি তাহা শুনিবা মাত্রই বলিল,,
ঃরুদ্র আমরা সকলেই তাহা জানিতে চাই, এতে অবাক হইবার কি এমন কারন রহিয়াছে।
রুদ্র কিছুক্ষন চুপ থাকিবার পর যাহা বলিল,,
অনু তুই বিনোদিনীর হাতখানি ধরিয়া রাখ, কারন আমার কথা শুনিবার পর ও হয়তো আমার শেষ কথাগুলো শুনিতে চাহিবে না।
অন্নপূর্ণা কিছু না বুঝিয়াই বলিল,
তুমি বল আমরা শুনাব এরপর রুদ্র বলিতে লাগিল,
ভবানীর স্টেট এ তাহার কনিষ্ঠপুত্র নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায়, যৌবনে একটি অপরাধ করিয়াছিলেন। বিনোদ ছিল তাহার বন্ধুপ্রতিম। অর্থাৎ বিনোদিনীর বাবা। নীলকন্ঠ বিয়ে করছিল উত্তর দিনাজপুর। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্বালে আমার বয়স তখুন পাঁচ, আমি মায়ের সহিত দিনাজপুর ছিলাম নানা বাড়ি।
আমাদের জমিদারী বলিতে তেমন কিছু ছিলো না তখুন। বাবার অপরাধের দায়ে দাদাঠাকুর তাহাকে বাড়ি ছাড়া করিয়া দিলেন। বাবা চলিয়া আসিল নানু বাড়ি। মায়ের সহিত বাবার ভীষনরকম ঝগড়া হয়ে গেল। আমার মা, বাবাকে কোনমতেই সহ্য করতে পারল না। এর ঠিক ক’দিন পরই দেশে গন্ডগোল আরম্ব হইল।
আমাদের পৈত্রিক বাড়ির সদস্যগণ পাড়ি জমাতে চাইছিল, উত্তর দিনাজপুর। জ্যাঠাইমা, দিদা, তারা চলিয়া আসিল আমাদের নানা বাড়ি।
আমার সেদিনকার আনন্দ আজো চোখের সামনে বিদ্যুৎছটার মতন মাথায় ভাজ পরে,
সেদিন নানা বাড়ির সকলেই চিৎকার করিয়া আকাশ বাতাস ভারী করিয়াছিল।
ভারী করিয়াছিলেন, কারন মুক্তিকামীগণ আমাদের বাড়িটি আক্রমন করিয়াছিল
আমাদের বাড়ির মালি একমাত্র জীবত ছিলেন তাহার ভাস্যমতে, দাদাঠাকুর ও জ্যাঠাইকে সেদিন খুচিয়ে খুচিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল।
বিনোদ কাকাও তাহাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। শেষমেষ বিনোদির বাবাকে জ্যাঠাই পা জরিয়ে ধরেছিলেন আর ঠিক তখুনই তাহার হাতে থাকা স্টেইনগানটি দিয়ে ঝাঁঝড়া করিয়া ফেলিলেন।

,,, বিনোদিনী,, আমারমনে হয় আমার বাবাকে জন্ম দেয়াটাই ছিল তাহার অপরাধ আর এর চেয়ে বড় অপরাধী হইলেন আমার বাবা নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায়। কারন তিনি একজন পাপী মানুষ ।
অনুদিকে আরো বলিল,
মালি সুরিন্দরের নিকট থেকে বাবা যেই শুনিলেন, সেদিন বিনোদ কাকা তাহাতে অংশগ্রহন করিয়াছে।
এর পর বাবা হঠাৎই অজ্ঞান হইয়া পড়েন। এবং তাহাকে আর বাচানো যায়নি, মৃত্যুই যেন তাহার প্রাপ্য ছিল।
স্বাধীনতার তিনবছর পর মা চলিয়া আসেন ভবানিতে, কিন্তু ততক্ষনে দেখা য়ায় ভবানীর নিজের বলিতে আর কিছুই নাই। সবকিছু গ্রাস হইয়া গেছে,
রাতের আধারে পালাতে বাধ্য হন, এর পর আবার আশ্রয় হয় উত্তর দিনাজপুর কিন্তু দিদা পড়াশোনার জন্য আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন রংপুর পাইলট স্কুলে। ( চলবে)