রুদ্র ম আল-আমিন এর ছোটগল্প
( পর্র-০১)
” বিনোদিনী ”

বিনোদিনী এ বছর মাধ্যমিক পড়া শেষ করেছে। খুব ভাল ছাত্রী, বিনোদিনীর বাবার ছোটখাটো একটা পৈত্রিক ব্যাবসা আছে। তাহা দিয়েই সংসারটা কোনভাবে চলে যায় তাদের।
বিনোদিনীকে লইয়া তাঁর বাবা চিন্তাযুক্ত হইয়া পরিল। কারন, বিনোদির পড়াশোনার ভার সরকার বহন করিতে চাহিলেও তাঁকে এত পড়াশোনা করানো ঠিক হইবে কিনা? তাহার জন্য পন্ডিত মশাইয়ের শরণাপন্ন হইলেন। পন্ডিত মশাই ইহাতে তাহাকে সায় দিলেন।
বিনোদিনীর বাবা একবার ভাবিলেন যে, তাহার পড়াশোনা এখানেই ইতি টানলে কেমন হয়।
কিন্তু বিনোদিনীর মুখের দিকে তাঁকিয়ে আর অমত করিলেন না। বিনোদিনীর মা গত পনের বৎসরকাল হইল গত হইয়াছেন।
মায়ের অনুপস্থিতি বিনোদির বাবা তাহাকে সেবাশস্রুসা করিয়েছে।
বিনোদিনীর বয়স কেবল মাত্র ষোল, দুরদুরান্ত বলিতে পাঠশালার বাহিরে মামাবাড়ি ব্যাথিত কোথাও কোনদিনও রাত্রীবাস করেন নাই। আনন্দ মোহন বিদ্যাপীঠ খুব নামীদামী কলেজ বলা যায়।বিনোদিনীকে সেখানে ভর্তি করানো হইল।
তাহার থাকিবার জন্য দুরসম্পর্কিত এক আত্বিয়র বাড়ি ঠিকঠাক করিলেন।বিনোদিনী তাহাকে দাদা বলিয়া সম্বোধন করিতে লাগিল।
কলেজের প্রথম দিন নবীনরণ অনুষ্ঠিত হইল। বিনোদিনী ভাবিল, যদি মন্চে তাহাকে কেহ ডাকিত, তবে নিজে একখানি রবীন্দ্রগীতি শোনাইতেন। যেহেতু বিনোদিনীর কোন পরিচিত কেহ ছিল না তাইতো মনোবান্চনা তাহার পুরন হইল না।
বিকেলের দিকে বাড়ি আসিলো। এবং পরদিন হইতে যথারীতি কলেজে যাওয়া আসা করিতে লাগিলেন।
হঠাৎ একদিন বাংল ক্লাস চলিতেছিল।
তাহাদের পাঠ্য হইতে মাষ্টার সাহেবর, শামসুদ্দীন আবুল কালাম এর ছোটগল্প “পথ জানা নাই “ছোটগল্প থেকে পরতে লাগলেন, মাউলতলার গফুর আলী ওরফে গহুরালি প্রায় উন্মত্তের মতো একখানা কোদাল দিয়া গ্রামের একমাত্র সড়কটাকে ক্ষত-বিক্ষত করিয়া ফেলিতেছিল।…একটু সহানুভূতির সাথে সে ইতিহাস বিচার করিলে তাহার এ কার্যের একটা সমর্থনও হয়তো খুঁজিয়া পাওযা যায়। নহিলে যে সড়ক একদা সকলেরই সমবেত চেষ্টায় গ্রামের উন্নতিকল্পে গড়িয়া উঠিয়াছিল, এমনকি গহুরালিও যাহার জন্য তাহার স্বল্প জমির বিরাট একটা অংশ ছাড়িয়া দিতে পারিয়াছিল, হঠাৎ তাহা ভাঙ্গিয়া ফেলিবার জন্য সে-ই বা এমন উন্মত্তবৎ হইয়া উঠিবে কেন?

বিনোদিকে মাষ্টার সাহেব জিজ্ঞাস করিলেন, তুমি বুঝতে পেরেছো?
রুদ্র অন্য একটি বেন্চি থেকে হু হু করে হেঁসে ঊঠল। ক্লাসের সকলেই ইহা জানিত যে,রুদ্র খুবই দুষ্ট কিন্তু অসম্ভব তাহার ভাল ব্যাবহার। এবং সেই সাথে একজন ভালো ছাত্র হিসেবেও তাহার পরিচিতি রহিঢাছে।
রুদ্রের আসল নাম কাহারও জানা নাই।কারন তাহার দুর দেশ হইতে আগমন ঘটিয়াছে। ঠিক যেন পথ জানা নাই গল্পের মতনই কোথায় তাহার গন্তব্য।

মাষ্টার সাহেব যখন রুদ্র কে দাড় করালেন, ঠিক তখুনই বিনোদিনী মাথা নিচু করিয়া মিটিমিটি হাসিতে ছিল, এবং ভাবিল, রুদ্রও মনে হয় বু্ঝিতে পারে নাই ?
কিন্তু বিনোদিনী দেখিল যে,
লাজলজ্জা ফেলে, সকলের সামনে দাড়িয়ে, একটা পতিতালয়ের ঘটনার বিবরন সমেত পেশ করিতেছেন।
ইহা দেখিয়া বিনোদিনী নিজে নিজেই লজ্জা বোধ করিতে লাগিল। কারন পতিতালয় কি? ইহা তাহার তাহা জানা ছিল না।
(চলবে)