রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব- ৯১)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

বদর এই সাধারন ছেলেটা কলেজ ক্যাম্পাসে রাতারাতি বদলে গেল ।
কিন্তু রমাদি রয়ে গেলেন পূর্বের ন্যায়। কারন, কলেজ জীবনের শুরু থেকেই রমাদির ছাত্র রাজনীতি মোটেই তাহার পছন্দ নয়। রমাদির ইচ্ছে হইল আইনশাস্র অথবা মেডিকেল অধ্যায়ন এর মধ্যে একটা কিছু করার।
কিন্তু বদর প্রাদেশিক নির্বাচনের পর রাজনীতির মাঠে অধিক সময় ব্যায় করতে লাগল, আর এর পেছনের কারনটি হলো মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে তাদের পরিবারের একটা সখ্যতা দীর্ঘদিনের।
কলেজ নিয়মিত চলতে থাকলেও ক্লাসের পরিবর্তনে হেরফের ঘটতে থাকল। রমাদিও অলস সময় পার করলেও বদর হয়ে গেলেন ব্যাস্ততায় ভরপুর।
মিটিং মিটিং দেখতে দেখতে রমাদি বদরের উপর ঘৃনা ভরে গেল। রমাদি ও বদর প্রায় নিয়মিত ঝগড়াটে রুপ ধারন করতে লাগলততাদের মাঝে।
তাহাদের মধ্যে একটা বিচ্ছেদের ডামাডোল শুরু হয়ে গেল। রমাদি নিজেকে ঘুটিয়ে নিতে শুরু করলেন। বদরকে যেন আর মনে মনে সহ্যই করতে পারছেন না। বদর কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেই সাধারন ব্যাপার নিয়েই রমাদি ক্ষিপ্ত হতে থাকেন।
এভাবে তর্ক বিতর্কের মাঝে কাটতে লাগল বেশ কিছুদিন। রমাদি দেখল বদরকে আর পিছনে ফেরানো তাহার পক্ষে সম্ভব নয়।
শুধু বদর কেন কলেজের অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী এখুন বদরদের মতের সাথে একমত।
কিন্ত রমাদি চায় সাধারন একটা জীবন,যে জীবন রমাদি পছন্দ করে তাহা হইল
সাদাসিধে হাস্যজ্জল একজন মানুষ, যেমনটা বদর পূর্বে ছিলো।
রমাদি মনে মনে ভাবল,তাঁর খেলার সাথাী বদর হয়তো চিরকালের জন্য এখুন তাঁর থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচছে। যেন তাহাকে ফেরানোর আর কেহ নাই। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় রমাদি বাড়িতেই ছিল সকালবেলা বদরের সাথে বাড়ির উঠোনে বাকবিতণ্ডা ঘটে গেল। রমার মা বুঝতে পারল না,
তাঁহার কি করা উচিত, রমাদির মা ইহা বুঝতে পারল যে, বদরের মধ্যে একটা দ্রত পরিবর্তন ঘটে গেছে।তাঁকে বোঝানোর সক্ষমতা তাহার নাই।
এই মাঝবয়সী মহিলার যথেষ্ট বুদ্ধি থাকিলেও বদরকে কি বলিবে, তাহা ভেবে পাইল না। রমাদির এই বাকবিতণ্ডার পর বদর রমাদির সাথে প্রায় কথা বলাই ছেড়ে দিল। সেই সাথে রমাদিও কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিল। শুরু হইল বদরের একলা চলো নীতি। বদর কলেজে সারাদিন হৈচৈ করে বাড়ি ফিরলেও রমাদি সেসব বিষয় নিয়ে আর জানতে চায় না বলে সাফ জানি্য়ে দিল বদরকে।
রমাদি যেইদিন থেকে কলেজ বন্ধ করে দিল তাহা দেখে রমাদির মা বদরকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগল,,
বদর মায়ের কথায় তখুনো কোন সারা দিল না। রমাদির মা উপায়ন্তর না পেয়ে সপ্তাহ দুয়েক পর রমাদিকে বলল
ঃ রমা একদিন কলেজে গিয়ে দ্যাখতো বদর কি করে?
রমা মাকে কিছুই বলল না।কিন্তু রমাদির মধ্যে একটা বোবাকান্না বয়ে গেল। রমাদির কেবলই মনে হইতে লাগিল, কেন বদরকে তিনি ভালোবাসলেন? তাহার নিজের ভাবনা কি তবে ভূল ছিলো। ইহা লইয়া রমাদি বিস্তর গবেষনা করিতে লাগিল।
(চলবে)

Advertisements