রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৮৯)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

টুনি মায়ের নিকট বেশ কয়েকবার জানিতে চেষ্টা করিয়াও সফল হইল না।
টুনি মনে মনে ভাবিল, দাদা হয়তো বা তাহার সাথে খারাপ আচরন করিয়া থাকিতে পারে। যাহা হোক, তাহারা সকলেই দুপরের খাবার সম্পন্ন করিলেও বদরের কোন সন্ধান মিলিল না। রাতে যখন বদর ফিরিয়া কাচারি ঘরে প্রবেশ করিল টুনি সেখানে গিয়ে দাদার নিকট জানিতে চাহিল সারাদিন কোথায় ছিলেন তিনি। বদর উল্টো টুনিকে বলিল,
ঃরমা ঘুমিয়ে পড়েছে?
ঃ মায়ের ঘরে
ঃ কি করছে?
ঃ কতা কইতাছে।
দিদিকে আইতে কমু?
ঃ বাবা কোথায়?
ঃহ্যায় উত্তর পাড়া রমিজের বাড়ি।
বদর কিছুক্ষণ নিরব থাকিয়া আবার বলিল
ঃ রমাকে আসতে বল?
রমাদি যখন কাচারি ঘরে আসিল তখুন বদরকে মহা চিন্তিত দেখা যাইতেছিল। তাহারা মুখোমুখি হইতেই বদর জিজ্ঞেস করিল,
ঃ মা তোমায় কিছু বলেছে?
রমাদি দুষ্টুমি করিয়া, নানান কথা বলিতে লাগিল।বদর বেশ চিন্তায় পড়িয়া গেলে রমাদি ভাবিল আর মিথ্যে বলা চলিবে না। তাইতো বদরের মাথায় হাত বোলাইতে বোলাইতে বলিল,,
ঃ এবার কি করিবে?
ঃভাবছি বাবার সাথে কথা বলব।
ঃ কেন?
ঃজানতে চাইব কেন মানবে না?
ঃবীরপুরুষ সাজিবে?
বদর রমাদির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রমাদি হাসতে লাগল। হাসির শব্দ এত জোরে হইতে লাগিল যে টুনি ও বদরের মা তাহা শুনিতে পাইল।
বদর রমাদির মুখখানি চেপে ধরতেই বলল,
ঃ লাগছে তো,,,,,, আমি মার মেয়ে হয়ে গেছি হ–হু-হু-হু—–
বদরের তখুন জমে থাকা মনের হাসি মনের মধ্যেই রয়ে গেল, এবং বুঝিতে পারিল যে, মা তাহাদের সম্পর্ক মোটামুটি মেনে নিয়াছে।
বদর গভীর রাতে মায়ের সাথে কাচারিতে বসিয়া মা ছেলে অনেক কথা হইল, এবং
রমাকে কতটা পছন্দ করে তাহা লইয়াও চুলচেড়া বিশ্লেষন করিল। কিন্তু মাকে বলিল যে, বাবা যেন ইহা জানিতে না পারে।পরের দিন বদর ও রমাদি যখন রমাদিদের বাড়ি পৌছাল তখুন রমাদি বাড়ি গিয়ে দেখল তাহার বাবা ঢাকায় চলিয়া গেছেন।
বাবার সাথে তাহার শেষ দেখা হইল না বলিয়া মনে মনে খুব কষ্ট পাইলেও ইহা ভাবিয়া খুশি হইল যে আর যাহাই হোক না কেন। বদরের মা তাহাকে পছন্দ করিয়া মেয়ে সম্ভদন করিয়াছে ইহাতে তিনি নিজেকে পরম আনন্দিত মনে করিতে লাগিল।
রমাদি বাড়ি ফিরিয়া তাহারা দুইজনে নিয়মিত কলেজে যাইতে লাগিল। বদর তাহার বাবা মায়ের সংসারের চিন্তা কিছুটা হ্রাস পাইল। এবং তিনি মনে করিলেন তাহার পড়ালেখা হয়তো আর ব্যাঘাত ঘটিবে না। কিন্তু রমাদির মধ্যে ততক্ষনে অনেক পরিবর্তনের ছাপ লক্ষ করা গেল।
রমাদি বদরের সহিত নিয়মিত ক্লাস করিলেও কলেজে নিজেকে বদরকে স্বামী বলিয়া পরিচয় দিতেও কুণ্ঠাবোধ করিত না। বদর ও রমার মধ্যে তাহা লইয়া হাসি ঠাট্টা মসকরা করিয়া তাহারা কেবল সময় পার করিতেছিল। কিন্তু সমস্যা হইল
কলেজে তখুন ছাত্র রাজনীতির উত্তাপ একে একে ছড়িয়ে পড়তে লাগিল।
এবং প্রাদেশিক পরিষদে শেখ মুজিব নৌকা মার্কা লইয়া নির্বাচনে অংশ লওয়ায় ছাত্রদের মাঝে রাতারাতি একটা পরিবর্তনের হাওয়া বইতে লাগিল। বদর দেখিতে পাইল ছাত্র ইউনিয়নের রফিক ও সিরাজ সহ অনেকেই ইহা লইয়া আর কোন কথা বলিতেছে না। বরং রফিক বদরকে কাছে ডাকিয়া আরো বলিল,,
ঃবদর, আমরা কিছু করতে পারি আর না পারি, একসাথে থাকতে তো পারি।
এর তুই কি ভাবিস?
(চলবে)