রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৮৮)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

পদধূলি বলিতে আমরা যাহা বুঝি তাহা হইল গুরুজনকর্তৃক আশির্বাদ।
কিন্ত অনধিকাল হইতে ভারতবর্ষের ধার্মিক ও বিবাহিত মহিলাগণ পুরুষের পায়ের ধূলো মাথায় লইয়া থাকেন। সেই সাথে পুরুষগণ মহিলাগণের কপাল তথা সিথি বরাবর চুম্বন করিয়া থাকে। এবং এই অন্চলের বিবাহিত পুরুষগণ দুরদেশে ব্যাবসা কিম্বা ভ্রমনের জন্য যখন ঘর হইতে বাহির হইত তখুন মহিলাগণও ঘরের চৌকাঠে দাড়াইত ঠিক সেই সময় পুরুষেরা তাহাদেরকে কপোলে চুম্বনশিক্ত করিয়া বিদায় লইত। ইহাই যেন বঙ্গীয় নারী পুরুষের রেওয়াজ রীতিতে পরিনত হইয়া রহিয়াছে।
বদর নিজেও ইহা জানে যে, এই সংকৃতি মাননব মানবীর ভীত অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বদর রমাদিকে পছন্দ করে, রমাদিও বদরকে পছন্দ করিয়া থাকে। তথাপি তাহারা বিবাহিত নয়। সে কারনেই যততত্র তাহার সহিত ঘনিষ্ঠতা জরাতে ভয় পাইয়া থাকে।
রমাদি পায়ের ধুলো লইয়া যখন অনেকক্ষন দাড়িয়ে রইল তখন বদর বুঝিতে পারে রমাদির মনন কি বলিতেছে। শেষমেশ বদর যখন রমাদির মুখখানি দুহাত দিয়ে ধরে কপালের মাঝ বরাবর মুখ লাগাইলেন বদরের মা তখুন দক্ষিনের ঘরের চৌকাঠ হইতে দেখিয়া ফেলিলেন। বদরের মা উহা দেখিয়া মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন
বদর কি তবে তাহাকে বিবাহ করিয়াছেন?
বদর ও রমাদি যখুন দেখিতে পাইল যে তাহার মা তাহাদের এতটা কাছাকাছি দেখিয়া ফেলিয়াছেন তখুন তাহারা দুজনেই হতভম্ব হইয়া গেল।
রমাদি যখন দেখিল বদরের মায়ের চোখে জল গরিয়ে পরিতেছে তখুন নিজেকে অপরাধী মনে করিতে লাগিল।
বদর মায়ের এই বিমূর্ত রুপ দেখিয়া,, তাহার এখুন কি করা উচিত তাহা ভাবিত লাগিল, এর পর রমাদিকে বলিল তুমি মায়ের কাছে গিয়ে দাড়াও। রমাদি মায়ের নিকট যখন ধীরপায়ে এগুতে লাগিল মা তখুন পা বাড়াইল রন্ধনশালার দিকে।রমাদি বদরের মায়ের নিকট আর যাইতে সাহস পেল না। টুনি তখন ঘরেই ছিলো রমাদি টুনিকে জরিয়ে ধরতেই তাঁর দুইচোখ জলের ফোয়ারা প্রবাহিত হইতে লাগিল। টুনি বারংবার রমাদিকে জিজ্ঞেস করিতে লাগিল
ঃ কি অইছে ? কি অইছে দিদি?
রমাদি টুনির ভাষা বুঝিতেই তাহার মুখের ভাষা ততক্ষুনে হারিয়ে ফেলিল। তাইতে টুনিকে তেমন কিছু বলিল না।
বদর লজ্জিত হইল, কি করিয়া মায়ের মুখোমুখি হইবে।
রমাদি টুনির ঘর থেকে আর বাহির হইল না। দুপুর গরিয়ে গেলো রমাদি তখুনো ঘুমিয়ে। বদরের মা টুনির ঘরে প্রবেশ করিয়া রমাদিকে মনের মত করিয়া আরো একবার দেখিতেছিল।
হঠাৎ টুনি প্রবেশ করিতেই বলিল,
ঃমাইয়াডা ঘোমায়া আছে, খাইবোনা,,, বেলা গড়ায়ে গেল।
টুনি দিদি দিদি বলিয়া ডাকাডাকি করিতেইরমাদির ঘুম ভেংগে গেল। রমাদি দেখিল বদরের মা তাহার পাশে দাড়িয়ে আছে।রমাদি তাড়াতাড়ি বিছানা ছাড়িয়া মাটিতে পা রেখেই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগিল।
টুনি এই কান্নাকাটির অর্থ কিছুই বুঝিতে পারিল না।
(চলবে)