রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৭৮)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

রমাদির মা ঘরের দোর খুলিবার পূর্বেই রমা ও বদর সেখানে উপস্থিত হইল।
মেষো কে নমস্কার করিয়া তাহার হাতখানি থেকে পাটের থলিটি এবার নিজের হাতে লইলেন
রমাদি বাবাকে জরিয়ে ধরে, কাঁদতে লাগল।
পাঠক,
রমাদির এই কান্না অর্থ আমি বুঝিতে পারিলাম না , আপনারা কি কেহ ইহা বুঝিতে পারিয়াছেন?
মেয়েরা আদিকাল থেকেই কিছু করতে পারুক না পারুক , কিন্ত এই নেকী কান্নাকাটি বেশ ভাল করিয়াই রপ্ত করিয়া থাকে। তারপর
গভীর রাত পর্যন্ত বদর মেষো মশাইয়েরসাথে পারিবারিক থেকে শুরু করিয়া পড়ালেখা ও দেশের বর্তমান বিষয়বস্তু লইয়া আলাপ আলোচনা করিলেও রমাদির মা এসব বিষয়ে কোন কথা আগবাড়িয়ে বলিল না।।
রমাদি একবার শুধু বাবাকে বলিল,,
ঃ তুমি ক’দিন থাকবে?
ঃ কাল পরশু
রমাদির বাবা একজন ভদ্রচিত্তের মানুষ।তিনি অপ্রয়োজনীয় কোন কথা সাধারনত বলেন না। রমাদি একবার ভাবিল,
বাবাকে বলিবে যে, বদরদের সংসারের জন্য কিছু একটা করতে পারবে কি না।
কিন্ত তাহা মুখে বলিতে পারিল না।
পরেরদিন সকাল বেলা রমাদির মা বদরকে ঘুম থেকে ডেকে রমাদির বাবার নিকট আসতে বলল।
বদর অনেকটা বিচলিত হয়ে পড়ল, এই সাতসকালে মেষো কেন ডেকে পাঠিয়েছে । তাহা লইয়া বিস্তর গবেষনা করিয়াও নিজের মধ্যে কোন উত্তর। মেলিল না।শেষমেষ ভাবিল,
তবে কি রমাদি,
মেষোকে উল্টোপাল্টা কিঝু একটা বলেছে যাহার জন্য মেষো তাহাকে ডাকিতেছে।
বদরের মধ্যে কিছুটা ভয় পরিলক্ষিত হইতে দে্খা গেল।
বদর নিজেকে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করতে করতে মেষোর সামনে গিয়ে দাড়াল।
রমাদিকে তখুন তার বাবার পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বদর তাহার দিকে তাকানোর সাহসটুকুও পেল না ।
বদর অবুঝ শিশুর মতো মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল।
রমাদির বাবা যখন কিছুই বলিতেছে না তখুন বদর ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে পড়িল।
কিন্তু ঠিক তার পর মেষো যখন বলিল যে,
ঃআজই তোমাদের বাড়ি যাব। তারাতারি স্নান সেরে নাও।
বাবার কথা শুনিয়া রমাদির চোখদুটো কোটরের ভিতর থেকে বাহির হইয়া আসিল। রমাদি বাবাকে বলিল,,
ঃ বাবা তুমি যাবে,,, কেন?
ঃ এট তোমার জানার দরকার নাই।।
রমাদি হনহন করে ঘর থেকে বাহির হইয়া মায়ের নিকট দাড়াল। এবং মায়ের কাছে বিষধ জানিতে চাহিল যে কেন তাহারা সেখানে যাইবে?
মায়ের মুখ থেকে যখন যখন কোন উত্তর পেল না তখুন রমাদি রাগান্বিত হয়ে বলল,,
ঃ আমি যাব না:
ঃতর বাবাকে বল
রমার বাবা ও মা কেন তাহাদের বাড়ি যেতে চায়। বদর তাহা বুঝিতে পারিল না তবে ভিতরে ভিতরে একটা সংকোচ বোধ করিতে লাগিল। মেষো যেহেতু রমাকে বলিল না সেই হেতু বদরও আর কোর প্রশ্ন করিল না।
(চলবে)