রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৭৬)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

রমাদির মধ্যে ধার্মিকতার একটা প্রভাব লক্ষ করা যায়।
স্নায়বিক থেকে ধর্ম বিভাজন তাহার পছন্দ না হলেও বদরের জন্য তাহার মন সপে দিয়াছে।
আর এর শেষ পরিনতি যাহাই হোক না কেন, রমাদি সারাদিন ভেবে এই সিদ্ধান্তগ্রহণ করল যে বদরকে তিনি আপনার করিয়া লইবেন।
ইহাতে যদি তাহাকে জাতীকূল বিসর্জন দিতে হয়
তাহাতে তিনি কার্পণ্য বোধ করিবে না।
রমাদি ইহাও ভাবিতে লাগিল যে, কবি কাজী নজরুলের জীবনে একাধিক নারীর আগমন ঘটিয়াছে,
তাঁহার পরও প্রমিলা সেনগুপ্তা তাহাকে তিনি পতি হিসেবে নির্বাচন করিয়া বেশ সুখী হইয়াছেন।
সনাতন ধর্ম যেহেতু প্রমিলা দেবীর ক্ষেত্রে কোন বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি, তবে আর ভয় পাইবার কোন হেতু মনে করিল না।।
রমাদি স্থির করিল আজ থেকে বদরের দেখভাল করিবার দায়িত্ব বুঝিয়া লইবেন।
কেননা বদরকে আর দুরে দুরে রাখিবে না।
সেই সাথে বদরের বাবা মায়ের জন্য, মাকে বলিয়া কিছু নগদ অর্থ প্র্দান করিতে পারিলে তাহাদের দুঃসময়ে অনেকটা উপকার হইবে।
রমাদি নিজেদের সংসারটা খুব ভালো করিয়াই জানে যে,বাবা মা তাহার বিবাহের জন্য পূর্ব থেকেই অনেক গুলো সোনার গহনা বানিয়ে রেখেছেন।
রমাদি মনে মনে ভাবিল,
সেগুলোর আর প্রয়োজন নাই, কারন বদরের মধ্যে লোভ বা লালসা বলতে সে কিচ্ছু দে্খেনি।
রমাদি সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে একাকি মনে হইতেছিল, ততক্ষনে সন্ধেবেলা ঘনিয়ে গেল। রমাদির মা তখুন
শাখ বাজাইতেছিল,,
রমাদি সেইসময় বি্ছানা ছাড়িয়া ধীর পায় বারান্দায় আসিল।
বদরের সাথে চোখাচোখি হতেই রমা মিটিমিটি হাসতে লাগল।
রমার মায়ের উলু ধবনি দেয়া হয়ে গেলে রমাকে বলিল,
ঃ প’রে যাস নে আবার।
রমাদি মায়ের কথা শুনিলেও সেদিকে দৃষ্টিপাত করিল না।
রমাদি অনেকক্ষন উঠোনে হাটা চলা করিয়া মাকে বোঝাইতে চাহিল যে,
রমাদি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হইয়া গিয়াছে।
এর পর মায়ের কাজেও হাত বাড়াইতে লাগিল, মা নিষেধ করিলেও তাহা মানিতে চাহিল না।
রাতের খাবার খাওয়া হয়ে গেলে রমাদি,
মায়ের উপস্থিতিতেই বদরকে বলিলো
ঃবদর দা দাড়াও,,
ঃকেন?
ঃ সারাদিন ঘুমিয়ে ছিলাম, তাই তোমার রুমে ব’সে গল্প করব।
রমাদির মা তেমন কিছুই বলিল না,এরপর রমাদি ও বদর তাহারা দুইজনে চলে গেল বদরের রুমে।
বদরের পড়ার টেবিলে পাতা চেয়ার খানি টানিয়া বদরের মুখোমুখি বসিল,
বদর তাহাতে কি্ছুটা ইতচ্ছত হইলে।
এরপর বদর, রমাদিকে বলিল,,
ঃরমা তুমি দিন দিন বদলে যাচ্ছ।
রমা ভ্রু কুচকে একটা সু্খের মিষ্টি হাসি হেসে নিল, কিন্ত সেই হাসির কোন সারাশব্দ পাওয়া না গেলেও বদর রমাদির দুষ্টুমিটুকু ঠিক বুঝিল।
এরপর রমাদি বদরকে বলিল
ঃ বদরদা আমার হাতখানি একটু ধ-রো- না- – -।
(চলবে)