রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৭৪)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

মানুষের আদিম প্রবৃত্তি হলো কারো না করো উপর আস্থা অর্জন করা।
আর তাহা থেকেই মানব মানবী অদ্যাবধি প্রর্যন্ত আমরা লক্ষ করছি যে,
যৌবনপ্রাপ্ত হলেই সকলেই সঙ্গী নির্বাচনের জন্য জীবনের একটা সময় অতিবাহিত করিয়া থাকেন।
রমাদি এই আঠারো বছর ছুইছুই মেয়েটি
যদিও বদরের সহজাত ধর্মাবলম্বী নয় তবুও সে অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বদরের উপর।
কিন্ত বদর যখন দেখল,যে রমাদি তাঁর শরীরের নিম্নাংশের পরিধেয় কাপড় খুলে ফেলিতেছে তোবু তাহার হাতখানি ছাড়িবার কোন লেশমাত্র নাই তখুন নির্বাক হয়ে মুখটি ঘুরিয়ে নিয়ে চোখদুটো বন্ধ করল। কারন পুর্ব আকাশ তখুন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
তার একটা হাত রমাদি ধরিয়া থাকার ফলে ডান হাতটি দিয়ে কান চেপে ধরলেও বিশ্রী একটা শব্দ রেরুচ্ছিল সেই সাথে বিশ্রী গন্ধও।
রমাদির শরীরখানি এক মুহুর্তে খারাপ হয়ে যাওয়ায় কোনরূপ পরিধেয় কাপড় খানি দিয়ে ঢেকে বদরের দিকে তাকাতেই দেখল,
বদর চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে।
এর পর রমা বদরের সামনাসামনি দাড়িয়ে দুহাত দিয়ে বদরকে জরিয়ে ধরতেই বদরের চোখ দিয়ে জল গরিয়ে পড়ল।
মুখে কিছু না বললেও বদর তাঁর ডান হাতটি কাঁধের উপর উপর রেখে রমার চোখের দিকে তাকিয়েই বলল
ঃ মা দেখে ফেলবে,,,, চলো,,,,,
ঃ তুমি কথা দাও
ঃ কি?
ঃ আমাকে ফেলে কোথাও যাবে না।
ঃ এখন ছাড়ো মা দেখে ফেলবে?
ঃ দেখুক,,,
ঃ রমা ছেড়ে দাও,, জানাজানি হলে কেলেংকারি হয়ে যাবে।
ঃআমি ভয় পাই না,,,
ঃ কিন্ত আমি,,,
বদর ও রমার মধ্যে ফিসফিস করে কথা হহচ্ছিল তখন বদর প্রচনড ভয় পাইতে লাগল।
এর পর রমাদি যখন বদরের শরীর থেকে হাত ফিরিয়ে নিল। তখুন বদর রমাদির দিকে ফিরে তাঁকিয়ে বলল যে,
ঃ আমার ইচ্ছে আছে,আমি কাছেই রাখব তুমি ভয় পেয়ো না। এবার চলো,,এর পর রমাদি একটা সাচ্ছন্দ তুপ্তির
হাসি হেসে সারা পৃথিবীকে জানান দিল যে, সে সমুদ্র জয় করে ফেলেছে।তাঁর নিজের বোঝা বহিবার মতন কাউকে সে পেয়ে গেছে।
সে আর একা নয়, ঘরে ফিরতে ফিরতে রমা মনে মনে ভাবল যে,
মৃত্যু যদি হয় তাহা যেনো বদরের বুকেই হয়।
রমাদিকে ঘরে পৌছে দিয়ে বদর মাকে বলল,
ঃ মা আমি গেলাম,,,
রমার মা অনেকটা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল তেমন কিছু বলল না, রমাদি নিজেকে বদরের সামনে লজ্জিত বোধ করতে লাগল।
রমা বদরের দিকে তাঁকাল না।
বদর ঘর থেকে বাহিরে এসে দেখল যে,রমার বান্ধবী বীথির মা উঠোনের কাছাকাছি চলে এসেছে। বদরকে দেখেই বলল
ঃ তোমাগো কিছু কি অইছে?
ঃ মাসিমা তেমন কিছুই না, কিন্ত মা তো ঘুমোচ্ছে।
ঃ তাইলে পরে আহুম নি।
বদর মাথা নেড়ে বীথির মাকে বিদায় করে দিল, এর পর রুমে ফিরে রমার কথা ভাবতেই বদর মনে মনে হাসতে লাগল।
(চলবে)