রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৬৫)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

উত্তেজিত গ্রামবাসী বাড়িটিতে কাউকে না পেয়ে অবশেষে বাড়িটি আগুন দিয়ে জালিয়ে দিলেন।
লোকজন ফিরে এসে বদরদের পুড়ে যাওয়া বাড়িটির ধংশস্তুপ সরিয়ে ফেলল।
কিন্তু বাড়ির আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার ফলে সেখান থেকে তখুনো দুর্গন্ধ বাতাসে বয়ে যেতে লাগল।
এর পর বাড়িটির উঠোনে টাংগানো হলো বাদাম (সামিয়ানা)
তাবুর মতো করে তৈরি করা হল আপাদত থাকার বাসস্থান।
এর পর তাজ মাতব্বর, বদর ও টুনিকে নিয়ে চলল নদীর দিকে। তাদের পিছনে পিছনে হেটে চলল গ্রামের কয়েকশত লোকজন।
নদীতে তারা সকলেই গোসল সম্পন্ন করে যে যার মত বাড়ি চলে গেল।
তখন দিনের প্রায় শেষভাগ চলছিল। বাড়িতে ফিরে তাবুতে পাশের বাড়ি থেকে আনা খর পাতালেন এবং তাহাতে মাতব্বর সাহেব শুয়ে পরলেন।
অন্য তাবুটিতে রমাকে বিশ্রাম নিতে দেখা গেল কিন্ত বদর তাবুর নিচে না গিয়ে উঠোনে যেখানে বাদাম টানানো ছিল সেখানে আগুনে অাধ পোড়া একটা চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে রইল।
এর কিছুক্ষন পরই মাগরিবের আযান হলো,বদরের বাবা উঠে এলেন নামাজ পড়তে,,, অজু সেরে সামিয়ানার নিচে দাড়াতেই গ্রামের বয়স্ক আরো কয়েকজন লোক সমবেত হলেন, এবং তারা একসাথে নামাজ আদায় করতে দাড়িয়ে পড়লেন।
বদরের বাবার পিছনে লাইন ধরে।
বদরের বাবা নামাজে দাড়িয়েই উচ্চসরে নামাজ আদায় করতে লাগলেন।এবং মোনাজাত ধরে কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিলেন।
সালাত আদায় সম্পন্ন হলে একে একে অনেক লোকের সমাগমে ভরে গেল বাড়ির উঠোনের আংগিনা।
বদরের বাবা গানেও খুব পারদর্শিতা ছিলো। কিন্ত তাঁর অ্রধিকাংশ গানই ছিলো দেহতাত্তিক, কিম্বা লালনের। এই জাতীয় গানই তিনি বেশি গাহিতেন।
তাঁর নিজের ছিলো একটা ডাবলরীডের হারমোনিয়াম যাহাতে আংগুলের ছোয়া দেয়া মাত্রই টনটন করে বেজে ঊঠত।পাঠকগণ,
টাংগাইল এর আনাচে কানাচে বহু প্রাচীনকাল থেকেই একধরনের মুর্শিদী গানের প্রচলন ছিলো। যাহা পরবর্তী কালে সে ধরনের বেশবুসায় পপ গানের প্রচলন দেখা যায়।
আর এই গানের গায়কগণ ঝাকড়াচুলের অধিকারী হয়ে থাকেন। বদরের বাবার মাথায়ও ছিলো ঝাকড়াচুল যাহা গর্দানে একটা বাবড়ির মতো দেখা যেত।
তাহার একজন শিস্যও ছিলেন, তাঁর কাছেই বদরের বাবার হারমোনিয়ামটি রক্ষিত আছে।
বদরের বাবা শিস্যু কদমআলীকে হারমোনিয়াম আনতে বলল, তিনি দেরী না করে সাথে সাথেই তাহা নিয়ে এলেন।।
বাড়িতে খাবার দাবার কোন ব্যাবস্থা ছিল না কারন, আগুনে সবকিছুই পুড়ে গিয়েছিল।
তাই প্রতিবেশির বাড়িতে গরু জবাই দিয়ে চলছিল বদরের বাবার নির্দেশে রান্নার ব্যাবস্থা।
এর পর একদল লোক মিলে বাড়ির উঠোনে এশার নামাজ আদায় করলেন।
এশার নামাজ শেষ হলেই বদরের বাবা ডাবলরীডের হারমোনিয়ামটিতে বেশখানিক্ষন সারগাম করতেছিল হাইস্পিডে,,, কিন্তু তাঁর দু’চোখে ছিল জলের ধারা।
(চলবে)