রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৬৪)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

তাইজ্জা ডাকাতের বাড়ি আক্রমনের খবর, ডাকবাংলার হাটে মুখে মুখে রটে যায় মুহুর্তেই।
বদরের বাবা বেহুশের মতন দৌড়াতে থাকে বড়ির দিকে। হাটের লোকজন আগুনের ধোয়া দেখতে পেয়ে শত শত উৎসুক জনতা রওনা হন বদরদের বাড়ির দিকে।
বদরের বাবা বাড়ি পৌছাতে পৌছোতেই শত শত হাটের লোকজনে ভরে যায় বাড়িটি।
যে ছাত্র জনতা বাড়িটি আক্রমন করেছিল তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও টুনি তাদের দুজনকে কুপিয়ে মেরে কয়েক টুকরো করে ফেলেছে।।
এগ্রামের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বদরদের আততিয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। প্রতিবেশি সহ সকলেই হইহই রইরই করছিল।
টুনির সারা শরীর রক্তে রক্তিম হয়ে গিয়েছিল। বদরের বাবা বাড়ির বাইরে দাড়িয়েই টুনিকে বুকে জরিয়ে নিলেন। আর বাঘের মত হুংকার ছুড়লেন,,
ঃ বাইচ্চা থাকলে এইহান থেকে সরা,,
মরারে নদীতে দিয়ে আয়।
হাটের লোকজন ধরাধরি করে আহতদের নিয়ে চলল হাটের দিকে, তাদের কোন পরিচয় মিলল না । কারনএরা দুরদরান্ত থেকে এসেছে, এরা বিভিন্ন স্কুলএ পড়ুয়া ছাত্র।।
আর তাইজ্জা বাহিনীর পুরোনো সদস্যরা টুকরো হওয়া দেহ মুহুর্তেই নদীতে ফেলে দিল এবংপোড়া বড়িটার সামনে দাড়িয়ে হৈ চৈ করতেছিল। কাউকে রেহাই দেব না। কাউকে রেহাই দেব না। বলে চিৎকার করতেছিল।
বদরের তখুন কোন হুশ ছিল না এবং কি টুনিরও, তাইতো
বদরের মায়ের দিকে কারো কোন খেয়াল ছিল না তিনি কোথায় কিভাবে আছেন।
বাড়িটি ধংসস্তুপে পরিনত হলেও তখুনো থেমে থেমে আগুন জলতে ছিল।
উপস্থিত লোকজন বলাবলি করতেছিল এই ঘটনার সাথে জরিত আছেন গ্রামের পুর্ব কোনার আদম বেপারী।
কারন তিনি এগ্রামের প্রধাণ হতে চান অনেকদিন ধরেই।
এর পর বদরের মায়ের সন্ধান মিলল, তিনি জীবিত আছেন তবে তাঁর শরীরের অনেকাংশ পুড়ে গেছে কারন, তিনি ঘরের মধ্যেই ছিলেন কিন্ত যখন ঘরটিতে আগুন ধরে যায় তখুনো তিনি বের হতে পারেননি কারন বদরের মা ঘরে মাচার নিচে লুকিয়ে ছিলেন। শেষমেশ নিজেকে রক্ষা করতে আগুনের মধ্য দিয়েই দৌড়ে পালাতে চান কিন্ত ততক্ষুন তাঁর পরনের শাড়ীতে আগুন ধরে যায়। পাশের দু বাড়ি পর তিনি পরে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। আর সে বাড়ির মহিলাগণ অবিরত শরীরে পানি ঢেলে এরপর সারা শরীরে ঘুটে মেশানো কাদার প্রলেপ লাগিয়ে দেন।
ওখানে কারো এই মুহুর্তে দেখা করা সম্ভব না কারন, বদরের মায়ের শরীরে মাটির প্রলেপ ছাড়া তাঁর পরনে আর কোন কাপড় নাই।
তাজ মাতব্বর তখুনও টুনির হাতখানি ধরে দাড়িয়ে, বদর মাটিতে বসে এক দৃষ্টিতে ঊঠোনের দিকে তখুন তাকিয়ে আছে।
উত্তেজিত গ্রামবাসী এবার ছুটে চলল, আদম বেপারীর বাড়ির দিকে,
(চলবে)