রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৬০)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা “

রমাদির কি করা উচিত তা হয়তো তার জানা নাই। তাই তো রাতের আধারে বদরকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল,
ঃবদর দা,,,,
আমি তোমার কাছে থাকতে চাই,,, তুমি যেখানেই যাও,, আমিও যাব।
আ-মা-য় নেবে না?

পাঠকগণ,
(বদর, এতদিন রমাকে এড়িয়ে চললেও আজ তাঁকে জবাব দিতেই হবে কারন, একদিকে তাঁর কৈশরের খেলার সাথী রমা অন্য দিকে তার মা।)
বদর বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ রইল, তাঁর পর সে বলল,,
ঃ আমি মুসলমান,,,
লণঠনের আলো তখুনো পড়ার টেবিলে নিভু নিভু জলছিল, রমা দেখল, বদরের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে।
ঃতোবুও,,,আ-মি,,,
এবার বদর চোখের জল মুছতে চেষ্টা করতে করতে বলল,
ঃতা কি করে হয়,,,
মা ঘুমিয়ে আছে তুমি তারাতারি যাও।
এর পর রমাদি অনেকটা সময় অতিবাহিত করলেও আর কোন কথা না বলে সোজা চলে গেল মায়ের ঘরে। মা তখুনো ঘুমাচ্ছিল।
ঘরে দরজা বন্ধ করতেই রমাদির মায়ের ঘুম ভেংগে যায়। একবার চোখ মেলে তাকিয়েই আবার ঘুমিয়ে গেল।
রমাদি সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারল না লণঠনের আলো শেষ হয়ে গেলে রমাও একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।
বদরও সে রাতে ঘুমালো না।
ভোর হতে না হতেই মা এসে বদর কে ডাকল, বদরের চোখদুটো লাল টকটকে হয়ে আছে, মায়ের সামনে দাড়াতেই বলল,,
ঃ রতনদের ওখানে অনেকদিন ধরে যাই না,, স্নান সেরে নাও।
বদর মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, মুখে কোন জবাব দিল না।
এরপর রমাদিকে ডেকে তুলতেই বিছানা ছেড়ে দাঁত ব্রাশ করতে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলে মা তাকেও বলল যে,
ঃতোর রতনকার ওখানে যাব। তারাতারি খেয়ে নে। বদরকে বলেছি।
বদরের নাম বলতেই রমা আতকে উঠল।
এর ঠিক কিছুক্ষণ পর তারা তিনজনে বের হলো মাঝিবাড়ির দিকে। রমার মা পথে হাটতে হাটতে বদরকে বলল,,
ঃ বিপিন পর হয়ে গেছে, বিপিন হয়তো আর কোনদিনও বাড়ি আসবে না,,,,কদিন পর তুমিও চলে যাবে, মা মেয়ে এবাড়িতে কিভাবে থাকবো ভেবে পাইতেছিলাম না। রতন কে বলতে চাইছি, যে ওদের ওখানে থাকব।
বদর আমি কি ভুল করলাম?
রমার মা ক্লান্ত মনে বদরকে জিজ্ঞেস করল,
বদর মায়ের কথার কি জবাব দেবে ভেবে পাইতেছিল না। কারন রমার বাবা বছরে দু তিনবার আসে অল্প কদিনের জন্য।
রমার দিকে তাঁকাতেই, সে মাথা নিচু করল, রাতের ঘটনা কেউ না জানলেও রমাদি বদরের চোখের দিকে তাকাতে লজ্জিত বোধ করতেছিল।
রমার মা আবার বলল,
ঃ বদর, রমাকে কি আরো পড়াবো?
(চলবে)