রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৪৫)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

বদরের বাবা রমাকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতো রমাদের বাড়ির খোজ খবর নিলেন। জানতে চাইল
তার মা কেমন আছে?। বিপিন কি করছে।
রমা বড়দার কথা ঠিকমতো বলতে পারল না একদমে বাড়ির সকলের কথা বলে ফেললেন।
ক্রমশই রাত বাড়তে লাগল।বদর বাড়ির ফেরার জন্য মনটা ব্যাকুল ছিল।
ময়মনসিংহ থেকে রাত্রিবেলা বাড়ি ফেরা অতটা সহজ ব্যাপার না। বাবাকে বলতেই সে জানাল যে, পথঘাট তার চেনাজানা।
রাত নয়টার দিকে ঢাকা যাবার একটা বাস আছে আর সেই বাসেই এলেংগা পর্যন্ত যেতে হবে।
এখুন রাত্রি সারে সাতটা
পাঠক,
(আপনাদের জানা দরকার টাংগাইল হলো একটা মহকুমা মাত্র)
রাতের খাবার খেয়ে তারা বাসস্টপ এ আসল বাসে বদরের বাবাকে অনেকেই চিনতে পারলেও মাতবর কাউকেই চিনকে পারল না।
গাড়ীতে বসেই বদর এর বাবা ঘুমিয়ে গেল।
রমা ও বদর ফিসফাস করে কথা বলছিল,
একসময় রমারও ঘুম পাইতে লাগল,, বদরকে বলতেই,,, বদর মাথা নাড়ল,
এবার রমা তার ডানহাতটা দিয়ে বদরের কাদে এবং বামহাতটা বুকের উপর রেখে
নিজেকে মেলে দিয়েই ঘুম পারতে লাগল।
বদর এই উনিশ বছরের ছেলেটা কিছুটা বেসামাল হয়ে বাম হাত দিয়ে চেপে ধরতেই
রমা মনে মনে হেসে উঠলে কিন্তু বদর কিছুই জানতে পারল না।
রমার তখুন ঘুম ভেংগে যায়। রমা ঘুমের ভান করে নিজেকে বদরের বুকে লেগে রইল।
বাস এলেংগা যখন থামল তখুন রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি। বদর জেগেই ছিলো। রমা কে ডাকতেই তারাতারি নেমে পরতে চাইল। বাবাকে নামতে দিয়েই বদর ও রমা বাস থেকে নামল।
টাংগানো দোকানটা তখুনও খোলা ছিল।
দোকানির কাছ থেকে জল নিয়ে রমা ও বদরের বাবা হাত মুখ ধুয়ে নিলেন। মাতবরের পান চিবানোর অভ্যাস ছিলো
এবার দোকান থেকে পান মুখে পুরতেই বাস চলে যায়।
রাত অনেক হওয়ায় এলাকাটা একটা ভুতরে পরিবেশ হয়ে গেল।
আশপাশে কোন লোকজনের সারা
পাওয়া যাইতেছিল না।
মাতবর দোকানের সামনে দাড়িয়েই পান চিবাইতেছিল,,
হঠাৎ ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ পাও য়া যাইতেছিল মিনিট পাচেক পর একদল দস্যু এ সে হাজির হলো সেখানে।
এই ডাকাত দল মুলত কালিহাতী একটা হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি শেষে ফিরছিলেন।
ডাকাত দলের সর্দার ইয়াইজা মাতবরকে দেখেই ঘোড়া থেকে নামল
বদর বাবার সামনেই দাড়িয়ে ছিল,সর্দারকে এদিকে আসতে দেখে রমা,
ভয়ে বাবাকে ঝাপটে ধরলেন। ইয়াইজা এসেই সোজা বদরকে ঝাপটে ধরেই জোরে জোরে হাসতে লাগল।
(চলবে)