রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৪০)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

বদর বাড়ি থেকে বেরিয়েছে রাত্রি দিপ্রহরে।
ভোর হতে হতে সবে মাত্র এলেংগা ছেড়েছে। রমা অনেকটা জোর পূর্বক বাড়ি থেকে বদরের সাথে এসেছে।
এবার কালীহাতির দিকে যেতে হবে। ময়মনসিংহ অবধি বাসে যেতে হবে তাদের। রমার খুব জল পিপাসা হইতেছিল।
বদরকে জলের কথা বলতেই একটা টঙ (টাংগানো) দোকানের পাশে দাড় করিয়ে জলের খোজ করছিল,
দোকানের পাশে তখুন তার সমবয়সী একটা ভদ্র ছেলে দাড়িয়ে সিগারেট ফুকতেছিল।
দোকানী বদরকে জানালো যে, তার কাছে বাসীজল আছে।
ভদ্র ছেলেটা হঠাৎ ই বলে উঠল,,
ঃকোন গ্যেরামে বাড়ি???,,
ঃবাঘিল!
ঃকালীহাতি,,,,
ঃ না মায়মিনসিং
ঃ আমার কাছে জল নাই তয় পানি আছে
খেতে পারো।
ঃএকই কথা তো হলো, দিন আমাকে।

ছেলেটা ভাংগা ভাংগা গলায় কথা বলতেছিল। দেখতে বদরের মতন লম্ভা চওড়া। কিনতু একটু উসকোখুসকো।
রমার জল পান করা শেষ হলে, জলের বোতলটা ভাল করে দেখল যে,
বোতলের গায়ে উর্দুতে কি সব লেখা আছে। রমা সে সব পড়তে পারল না। বদর কে দেখাতেই ছেলেটা আবার বলে উঠল।,,
ঃ এইডা পশচিম পাকিস্তানি জল,
একদম বিসুদ্ধ।
ইষট বেংগল রেজিমেন্ট এ ছিলাম,,চাকুরী টা ছেড়ে দিলাম।
ছাতিহাটি বাড়ি,,

ভদ্র ছেলেটার কথা শেষ হওয়ার আগেই
ঢাকা গামী বাস ফিরতেই বদর কে বলল,,
ঃবাসে ওঠে আমার জন্যে একটা আসন রেখ।
রমার, এই লোকটার কথা মনে মনে তেমন পছন্দ হইতেছিল না।
বাসে উঠে বদরের ডান দিকে ফাকা যায়গার পর একটা আসন নিলেন। বামপাশে রমার জন্য। এতটা পথ হাটার ফলে রমার ক্লান্তি লাগতেছিল। মিনিট দশেক পরেই বাস কালীহাতির উদ্দেশ্য ছুটে চলল।
রমা বাসের ঝাকুনিতে ঘুম পাইতে লাগল
এক সময় বদরের ডান কাধে হাত ও মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেল।
ছেলে টা এবার বলল
ঃ তোমার নাম কি?
ময়মনসিংহ কেন?
ঃআমি বদর, বাবা গারদে
ঃকেন?
ঃ জানি না, তবে নওশের সাব বলছে
তার বাবা, আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ,,,,, ঢাকায় গনডগোল হইতেছে, তার জন্য হইতে পারে।
ঃ উকিল ধরছো,
ঃ না
ঃ আমি ছাতিহাটি নামব। আবার স্কুল এ ভর্তি হয়ে পড়া শোনার ইচছে আছে।
অনেকদিন পর বাড়ি ফিরছি।
তু,,,,মি আবদুল আলী, উকিলের সাথে দেখা কর।
বলো যে, কাদের পাঠিয়েছে।
আমি তার ছেলে।
বদর নওশের সাহেবের চিরকূট টা দেখল
ও খানে লেখা আছে আঃ আলীম।

পাঠক,
(এই কাদের আর কেও নয়, উনি আপনাদের পরিচিত, বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী)
(চলবে)