রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব-৩৪)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

রতন, রমা কে নিয়ে গেলেন পূজো মনডপে,রাত তখুন গভীর। রমা একটা ছেলের হাত থেকে ধুপতি নিয়েই মাতালের মত নাচতে লাগলেন ধুপতি হাতে।
রমার কাকা চেয়ারে বসে দেখতে লাগল।
বদর রতনের পাশে দাড়িয়ে,,,
অনুমান করতে পারল না যে, হঠাৎ রমার মধ্যে দেবীরুপ কোথা থেকে এলো। রতন বদরকে বলল যে,
ঃবদর দেখেছ, রমার মনটা দেবীমার পায়ে সমার্পন করেছে।
ওর মা ওর মতোই ছিলো।
বদর অন্যমনস্ক থাকায রতন আর কোন কথা বলল না,, বদর এক দৃষ্টিতে রমার নৃত্য দেখতেছিল।
হঠাৎ, রমার হাত থেকে ধুপতি পরতেই রতন কাকার পায়ের কাছে রমাও পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। বদর রমাকে ঝাপটে ধরে বলল
ঃ কাকা তারাতারি ধরুন।
পুরোহিত চোখে মুখে জল ছিটিয়ে দিতেই
চোখ মেলে তাকাল বদর টেনে তুলল রমাকে।
কাকা ওদের কে নিয়ে গেলেন বাড়িতে।
রমাকে জিজ্ঞাস করল
ঃ এভাবে পরে গেলি কেন?
ঃজানিনা কাকা
বদর বলল,, ঃসারাদিন কিছুই মুখে দেয়নি।
ঃমা জানে
ঃসকালে বের হয়ে গালা থেকে বামন পাড়া হয়ে এখানে।
কাকা খেতে দিতে বলল বৌদিকে। খাবার খাওয়া শেষ হতেই বলল
এখুন ঘুমোতে যাও কাল অাবার বিজয়দশমী
বদর কাকার রুমে শুয়ে পড়ল কাকা চলে গেল পূজো মনডপে। বদরের নিদ্রা পাইতেছিল না কেবলি রমার কথা খুব মনে পরতে লাগল। রমার বর কথাটা মনের মধ্যে খটকা বাধাচছিল আর রমার দেবীরুপ দুটো এক সাথে মেলাতে পারতেছিল না।
এবার বিছানা ছেড়ে ঘরের মধ্যে পাচারী করতে লাগল।
বদর সারারাত জেগে রইল,,,,,
বিজয়দশমীর দিন খুব ভোরে রমার বাবা হাজির হলো রতনদের বাড়িতে। রমার কথা বলতেই,বৌদি বলল,,
ঃও ঘুমাইতাছে।
রমার বাবা কিছু না বোঝার ভান করে বলল
ঃরতন কোথায়,, ওর কাছেই এসেছি
ঃ ও হয়তো কারো বাড়িতে শুয়ে আছে।
বদর বাইরের কথা ঘরের ভেতর থেকেই
শুনতে ছিলো কিনতু আন্দাজ করতে
পারতেছিল না। দরজা খুলতেই রমার বাবা বলল
ঃউঠলে কেন
ঃনা, আপনার গলার সর পেলাম তাই
ঃ ও ও হো হো,, রতন এর কাছে
রমার বাবা বলল,,
ঃআমি মনডপে গেলাম রতন কে পাঠিয়ে দিও বৌদি
রমা বাবা বের হওয়ার মিনিট পাচেক পরেই রতন ফিরেই স্নান করতে গেল।
রাতে অতিমাত্রায় বোদকা ( মদ)খেয়েছিল। শরীর প্রবিত্রার জন্য,স্নান সারতেই বৌদি জানাল যে রমার বাবা মন্দিরএ আছে তারাতারি যাও।
রতন গিয়েই দেখল পুরোহিত সকলকে দাড় করিয়ে মন্ত্র শুরু করছে

“ঔঁ জয়ন্তি মঙ্গলা কালী, ভদ্র কালী কপালিনী, দূর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী, স্বাহা স্বধা নমস্তুতে। এস স্ব চন্দন পুষ্প বিল্ব পত্রাঞ্জলী নম ভগবতী দূর্গা দেবী নমহ্”

এবার দূর্গাকে প্রণাম করতে হবে বলেই মন্ত্র পড়ালেন

“সর্ব মঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে
শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরি নারায়নী নমস্তুতে”
(চলবে)