রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস,,,
(পর্ব-৩০)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

ওঁ ভূঃ ভুব স্বঃ তৎসবিতুঃ বরেণ্য ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যোনঃ প্রচোদয়াৎ। ওঁ।

যজ্ঞ সম্পন্ন হলেকলাপাতায় কাকেদের জন্য টিনের চালে খাবার রাখতেই
মুহুর্তের মধ্যেই কাকেদের আনাগোনা বেড়ে যায় । সমাজের লোকজনকে বিদায় করে নিজেরা খাবার খেয়ে নেয়।

পাঠকগণ,

এই শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান মূলত রমাদের বাড়িতে আয়োজন করা হয়।)

বদর চলে যায় ঘরে।।
মা বদরকে একবার ডাকল ।কিনতু বদর কোন সারা দিল না।
রমা বদরের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করতেই
ঃ রমা কি করছো এটা
ঃউু,,,
ঃ দরজা বন্ধ করছো কেন? বাড়ি সুদ্দলোকজন কি বলবে সবাই।
রমা, রুমে গিয়ে বদরের দুহাত জরিয়ে ধরল।
ঃ বদর দা,,, আমার উপর রাগ করে থাকতে পারলে
ঃরাগ হলে কি আবার আসি,,
হাতটা ছাড়ো।
ঃ ছাড়তে পারি কথা দিতে হবে
ঃ কি,,
ঃবলো রাজি কি না
ঃ দরজাটা খুলতে দাও তারপর বলছি,,
ঃ না,,
ঃবাবা জানতে পারলে কি হবে।
ঃ জানুক
ঃকি
ঃতুমি আমাকে কথা না দিলে ছাড়ছি না,,
ঃতারাতারি বলো, কেউ আসতে পারে
ঃ পূজো দেখতে যাব
ঃপ্রতিবারই তো মা নিয়ে যায়
ঃএবার তোমার সাথে
ঃ বাবা কি ভাববে,, আর মা,,
রমা, বদরের হাত ছেড়ে দিয়ে দরজা খুলল,, দরজায় দাড়িয়ে বলল,,
ঃ বাবাকে আমি দেখব আর মাকে তুমি।

রমা চলে যাবার পর বদর ভাবতে লাগল যে, তার অনুপস্থিতিতে রমার হয়তো অনুরাগ থেমে গেছে।
তার কিছুক্ষন পর বদর মায়ের ঘরে যায়,
রমার বাবা খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে ছিল।
ন্যাড়া মাথায় একদম পুরোহিত এর মতন
মনে হইতেছিল। পীষি ও পীষির মেয়ে শুকলা ঘরেই ছিল।বদর মাকে বলল,,
ঃ মা,,, কিছু একটা বলবেন
ঃ রমার বাবা বলছিলো,তোমাকে কি কিনে দেব।
পূজোর সময় সাধারনত নিকট লোকজন কে নতুন পোষাকে কিনে দিয়ে থাকে।
মা বলতেই বলল,,
ঃঅামার কো সবইেআছে।
রমা বলল,,
ঃতা কি করে হয়,,
রমার বাবা রমার মাকে বলল যে,
ঃরমাকে পাঠিয়ে দাও স্যুট প্যান্ট কিনে দিক।

বদর কোন কথা বলল না। মা বদর কে তার রুমে যেতে বলল , বদর চলে যাবার পর রমার উপর দায়িত্ব রইল।
বদর কে পোষাক কিনে দেবার। রমা মনে মনে খুব হাঁসি পাইতেছিল। কিনতু প্রকাশ করার ভাষা খুজে পাইতেছিল না।
রমা বাবাকে বলল যে,
ঃবাবা এ কাজটা তুমিই কর,,
ঃ না মা ওতো আমার সাথে কথা বলে না,
বদর আমার কাছ থেকে নেবেই না,,
রমা ব্যাপার টা একবার ভাবল,,

সত্যিইতো,, বাবার সাথে তো কোন দিন কথা বলতে দেখিনি।।

(চলবে)