রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস,,,
(পর্ব-২৯)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা ”

রমার বাবা বাড়ি ফিরলেন। ঠাকুরকে ডেকে শ্রাদ্ধ এর দিন তারিখ নির্নয় করে জানা গেল যে মহালয়ার দিন এটা করতে হবে।

সে মোতাবেকই শুরু হলো কাজকর্ম।
দাদাব শ্রাদ্ধ্ ও দূর্গাপূজার জন্য একসাথে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে এসেছেন।
বাবা বাড়ি ফিরতেই রমা ও বদর পড়াশোনায় বেশ মনঃযোগী হলেন।
এদিকে দূর্গাপূজার
আয়োজনের জন্য সমাজ প্রতিরা চতুরদিকে চাদা তোলা নিয়ে ব্যাস্ত।
মহালয়ার আর একদিন বাকি রতন ও রমার বাবা কেনাকাটা সারলেন।

সর্বপিতৃ অমাবস্যা দিবসে তিথির নিয়মের বাইরে সকল পূর্বপুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়। এই দিন গয়ায় শ্রাদ্ধ করলে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। উল্লেখ্য, গয়ায় সমগ্র পিতৃপক্ষ জুড়ে মেলা চলে।

বাংলায় মহালয়ার দিন দুর্গাপূজার সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গামর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার দিন অতি প্রত্যুষেচণ্ডীপাঠ করার রীতি রয়েছে।
সে মোতাবেক রমার বাবা কে
মহালয়ার দিন দিপ্রহরে নদীতে স্নান করিয়ে দাদার শ্রাদ্ধ শুরু করালেন

শ্রাদ্ধকর্তাকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ধুতি পরে শ্রাদ্ধ করতে হয়। শ্রাদ্ধের পূর্বে তিনি কুশাঙ্গুরীয় (কুশ ঘাসের আঙটি) ধারণ করেন।

এরপর সেই আঙটিতে পূর্বপুরুষদের আবাহন করা হয়। শ্রাদ্ধ খালি গায়ে করতে হয়, কারণ শ্রাদ্ধ চলাকালীন যজ্ঞোপবীতের অবস্থান বারংবার পরিবর্তন করতে হয়।

শ্রাদ্ধের সময় সিদ্ধ অন্ন ও ময়দা ঘি ও তিল দিয়ে মাখিয়ে পিণ্ডের আকারে উৎসর্গ করা হয়। একে পিণ্ডদান বলে। এরপর

দুর্বাঘাস, শালগ্রাম শিলা বা স্বর্ণমূর্তিতে বিষ্ণু এবং যমের পূজা করা হয়। এরপর পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে খাদ্য প্রদান করা হয়। এই খাদ্য সাধারণত ছাদে রেখে আসা হয়। যদি কোনো কাক এসে সেই খাদ্য খেয়ে যায়, তাহলে ধরা হয় যে খাদ্য পিতৃগণ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

মনে করা
হয়, পাখিটি আসলে যম বা পিতৃগণের আত্মার প্রতিনিধি।গোরু ও কুকুরদেরও খাওয়ানো হয়। ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো হয়। পূর্বপুরুষ (কাকের বেশে) এবং ব্রাহ্মণেরা ভোজন করলেই তবে পরিবারের সদস্যরা অন্নগ্রহণ করেন।

ঠাকুর সব আয়োজন সম্পন্ন করলেন

বদর শ্রাদ্ধীয় নিয়ম গুলো বেশ উৎসুক মনোযোগী হয়ে দেখতে লাগলেন,,, ,,
(চলবে)