রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব -15)
“একজন মুুক্তিযোদ্ধা”

পরদিন হাট বার, এখানে এই একটাই হাট সপ্তাহে একদিন বসে. যুগনী হাট, প্রতি সোমবার আনুমানিক সকাল দশটার দিকে শুরু হয়ে সন্ধা প্রর্যনত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়. আশ পাশের দশ গ্রামের লোকজন এই হাটে কেনা বেচা করে থাকে.
রমাদের বাড়ি থেকে অল্প একটু দুরে.

রমার মা সকাল বেলা নারায়ন ঠাকুর অর্থাৎ স্কুলের সভাপতির বাড়ি গিয়ে ঠাকুর কে বিস্তারিত খুলে বলেন.
ঠাকুর রমার মায়ের কথা মনঃযোগ সহকারে শুনল, এবঃ জিজ্ঞাসা করল যে,
ঃকয়দিন ধরে গেছে?
ঃঠাকুর মশাই, এই তো আজ তিনদিন.
ঃঅনেকদিন ধরেই তো আছে
ঃহ্যা কিন্তু?
ঃকোন সমস্যা?
ঃনা বলছিলাম, আজ হাটবার কিনা,
আপনি যদি ,,,
ঃপাটহাটি আমি বলে দিবো নে, চিন্তা করবেন না.
ঃবিপিনে তো বাড়ি থাকে না ,,, ওই সব করে ,,,
ঃ ছেলেটা তাইজ ভাইর মত না ,,
তাই না বৌদি.
ঃ নিজেগো মতই থাকে, কি আর বলব.
ঃখরচা তো পাঠায় আমাকে বলল, ওই সেইদিন টাউনে দেখা অইছিল.
পড়া লেখাও তো শেষ হইয়া আইল.
ঃ হ ,,,,,
ঃ রমাকে মেট্রিকের পর পরাইবেন
ঃওইটা ওর দাদা, বাবায় বলতে পারব
কি করে কই.
ঠাকুর কথা বাড়াল না, রমার মাকে বিদায় দিল,
রমার মা বাড়ি এসে ঠাকুরের কথা গুলো ভাবল, রমাকে আর পড়াবে কি না.
টাউনে রাখার সাধ্যও নেই. এই কটা বছর বদরের বাবা পুরো সংসারের খরচ বহন করছে. তাকে কি করে বলবে.
রমার বাবার পক্ষে ও সমভব না, বিপিনের এখনও কোন চাকরী নাই.
বিপেন বাবার পয়সায় ঢাকায় হন্য হয়ে ঘুরছে. মেয়েটা সুন্দরী তাই বলে তো যার তার হাতে তুলে দেয়া যাবে না.
রমার মা এলোমেলো ভাবনায় পরে যায়,
রমা বই খাতা গুছিয়েছে স্কুলএ যাবে.
মাকে বলল:
ঃ কোথায় গিয়েছিলে?
স্কুলএর সময় হয়েছে খেতে দাও.
ঃখেয়ে নে শরীর টা ভাল না.
ঃবদর দা কে খবর দেবে.
ঃঠাকুরের কাছ থেকে আসলাম.
ঃ কি বলল?
রমা উতলা হয়ে যাচছে, খবর টা শোনার জন্য.
ঃ পাট হাটিতে খবর দিব.
রমা আর কোন কথা বাড়ায় না, মনে মনে খুশি হয়.
ঃ মা আমি গেলাম.
ঃখেয়ে যা ,,,,,,
তরিঘরি করে কোন রকম ক্লাসএ পৌছতেই, ইংরেজি মাষ্টার হাজির হলেন ক্লাসে.

তিনি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর ম্যাকবেথ নাটকের কথা বলল ,,
হ্যামলেট সিলেবাসে আছে কিনতু ম্যাকবেথ নাই তার পরেও তিনি বলছে যে
শেক্সপিয়ার সমপকর্কে সবকিছু জানতে হবে.বলেই বলতে শুরু করলেন ,, ম্যাকবেথ ছোট একটা নাটক ,,
কিং ডানকান, ম্যাকবেথ, ম্যাস্কো সিওযার্ড ,,
কি সব বলছে রমা ছারের কথা বুঝতে পারছে না.
ঃ Understand Roma, Boddor did not come,

(চলবে)