রুদ্র ম আল-আমিন এর উপন্যাস
(পর্ব -13)
“একজন মুক্তিযোদ্ধা”

রমার মা রান্না শেষ করে ঘরে ফিরে দেখল যে, মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে। যেহেতু রমার শরীরটা ভাল না, তাইতো ঘুম থেকে ডেকে তুলল না।
এমন সময় রমার পীষি এসে উঠোনে দাড়াল, দাড়িয়েই বলল ,,
ঃ রমা ,,, রমা কোথায় রে?
রমার মা এগিয়ে যায়,
ঃতিথি তুই এত সকালে ,,,?
ঃআর বলোনা বৌদি, তেমাগো বাঘিলে পূন্য দার কাছে, অনেকদিন হয়ে গেল গয়নাটা বানায় না।
পূর্নচন্দ্র রায়, বাঘিল গ্রামে নামকরা কর্মকার,
তার হাত যশ খুবই ভাল, তার তৈরি গয়না ছাড়া আশপাশের দশগ্রামের লোক বিয়েথা দেয় না।
ঃরমা কোথায় বৌদি?
ঃ ঘরে চল সব বলছি। ও ঘুমাচ্ছে।
ঃএত বেলা কইরা কি ঘুমায়।
ঃনা ,, আইজ ওর শরীরটা ভাল না তাই
আর কি।
পীষি ঘরে গিয়ে রমার মাথায় হাত দিতেই চোখ মেলে তাঁকাল, রমা বসেই পীষির গলা জরিয়ে ধরল। কিনতু রমা খুব করে কাঁদছে, ঃ
আরে আরে বোকা মেয়ে কাঁদছিস ক্যান।
তোর পীষি সবসময় তোর সাথেই আছে।

পীষি মাথায় হাত বোলাতে লাগল, পাঠকগণ, (আপনারা হয়তো নিঃচয়ই খেয়াল করেছেন রমার একান্না কার জন্য,)

পীষির শশুরবাড়ি গালা ইউনিয়নে পাল বাড়ি, পালবাড়ির বড় ছেলে সুকুমার কেরানির চাকুরী করে, সচছল একটা পরিবার হলেও সুকুমার কোনদিন এ বাড়িতে আসেনি। তিথি সুকুমার কে ভালবাসতো কিনতু সুকুমার পাল বংশ
এটা রমার বাবা, মেনে নিতেই পারেনি আজ অবধি।

শেষ মেষ তিথি পালিয়ে সুকুমার দের বাড়ি যায় ,, বিয়ে হয়েছে প্রায় শতেরো বছর হলো, এই সতেরো বছরে রমার বাবা একবারও দেখতে যায়নি, তিথির একটা মেয়ে আছে নাম শকুন্তলা, সবাই শুকলা নামে ডাকে।
শুকলার বয়স পনেরো, গালা হাই স্কুলে পড়ালেখা করে।
তিথি বছরে একআধ বার আসে ,, রমার মা তিথিকে নিজের সন্তানের মতই মনে করে।
রমার মা জিগগেস করল,
ঃশুকলার শরীরডা ভালো আছে,? দেইখা রাখিস ,,,,,
মাথা নেড়ে বললঃ হ ,,,

ঃসুকুমার আমাগো কথা কয়.
ঃওসব থাক বৌদি,
আমি আবার দেরি করব না ,,, বদরকে তো দেখছি না বৌদি?
ঃ অইতো, কাল বাড়ি গেল.
ঃছেলেটা মুসলমান, কিন্তু খুব ভাল তাই না বৌদি.
ঃতিথি ,,, রমাকে সাথে নিয়ে খাবি, তার পর যাস ,,
রমার মা ঘর থেকে বেরুতেই তিথি রমাকে বলল,
ঃবদর ছেলেটা এখন কেমন রে ,,,
(চলবে)